রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুমিনুলের আউটে দিনের সমাপ্তি, লিড নিয়ে চালকের আসনে বাংলাদেশ

মাহমুদুল হাসান জয়ের ঝোড়ো অর্ধশতক এবং বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিনের একদম শেষ বলে অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের উইকেটটি হারিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। দিনশেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১০ রান। ফলে পাকিস্তানের চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৬ রানে এগিয়ে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দিনের খেলা শেষ হতে যখন মাত্র এক বল বাকি, ঠিক তখনই খুররম শেহজাদের একটি বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মুমিনুল হক। আউট হওয়ার আগে ৬০ বলে ৩০ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। মুমিনুলের এই বিদায়ের পরপরই আম্পায়াররা দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এর আগে ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪ রান করে খুররম শেহজাদের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ৫৮ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জয়। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে অতিরিক্ত শট খেলতে গিয়ে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে এসে মুমিনুলের সঙ্গে দিনের বাকি সময়টা দেখেশুনে পার করার চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলে প্রথম ইনিংস থেকেই ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
সকালের সেশনেই গতি তারকা তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে কুপোকাত হন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৮) ও আজান আওয়াইস (১৩)। এরপর স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পিচে থিতু হতে যাওয়া শান মাসুদ (২১) ও সৌদ শাকিলকে (৮) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চরম বিপদে ফেলেন।
পঞ্চম উইকেটে বাবর আজম ও সালমান আলী আগা ৬৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি তুলে নিয়ে বাবর যখন সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গতিদানব নাহিদ রানা ৬৮ রানে থাকা বাবরকে সাজঘরের পথ দেখান। চা-বিরতির পর তাইজুল ইসলামের স্পিন ও নাহিদ রানার গতির মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার। সালমান আগা (২১), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীরা (১৮) কেউ আর পিচে টিকে থাকতে পারেননি। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম ৩টি করে এবং তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী মিরাজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
Tag :

তাহিরপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত রাকিব গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো আদালতে!

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

মুমিনুলের আউটে দিনের সমাপ্তি, লিড নিয়ে চালকের আসনে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
মাহমুদুল হাসান জয়ের ঝোড়ো অর্ধশতক এবং বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিনের একদম শেষ বলে অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের উইকেটটি হারিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। দিনশেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১০ রান। ফলে পাকিস্তানের চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৬ রানে এগিয়ে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দিনের খেলা শেষ হতে যখন মাত্র এক বল বাকি, ঠিক তখনই খুররম শেহজাদের একটি বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মুমিনুল হক। আউট হওয়ার আগে ৬০ বলে ৩০ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। মুমিনুলের এই বিদায়ের পরপরই আম্পায়াররা দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এর আগে ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪ রান করে খুররম শেহজাদের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ৫৮ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জয়। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে অতিরিক্ত শট খেলতে গিয়ে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে এসে মুমিনুলের সঙ্গে দিনের বাকি সময়টা দেখেশুনে পার করার চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলে প্রথম ইনিংস থেকেই ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
সকালের সেশনেই গতি তারকা তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে কুপোকাত হন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৮) ও আজান আওয়াইস (১৩)। এরপর স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পিচে থিতু হতে যাওয়া শান মাসুদ (২১) ও সৌদ শাকিলকে (৮) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চরম বিপদে ফেলেন।
পঞ্চম উইকেটে বাবর আজম ও সালমান আলী আগা ৬৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি তুলে নিয়ে বাবর যখন সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গতিদানব নাহিদ রানা ৬৮ রানে থাকা বাবরকে সাজঘরের পথ দেখান। চা-বিরতির পর তাইজুল ইসলামের স্পিন ও নাহিদ রানার গতির মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার। সালমান আগা (২১), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীরা (১৮) কেউ আর পিচে টিকে থাকতে পারেননি। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম ৩টি করে এবং তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী মিরাজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন।