তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
একটি চকলেটের লোভ! আর সেই ছলেই কেড়ে নেওয়া হলো একটি অবুঝ শিশুর নিষ্পাপ শৈশব। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাত্র পাঁচ বছরের এক শিশুর ওপর নেমে এলো এক করুন অধ্যায়।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেলের। উপজেলার ৫নং বাদাঘাট ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় প্রতিবেশী কিশোর রাকিব মিয়া। অবুঝ শিশু মোছাঃ লামিয়া আক্তারকে (৫) ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। রক্তে ভেজা দেহে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি স্বজনদের কাছে বর্ণনা করে সেই নৃশংসতার কথা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই দিনই রাত ৮টার দিকে তাকে তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা। প্রাথমিক চিকিৎসায় নির্যাতনের আলামত পেয়ে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার গাইনোকোলজি ওয়ার্ডে টানা দুই দিন চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় পরদিন শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোর রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ এবং গতকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা। হলেও, পাঁচ বছরের এক অবুঝ শিশুর ওপর এমন নির্মমতায় ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা। স্বজনদের আহাজারির সাথে পুরো গ্রামের মানুষের এখন একটাই দাবি—এই নৃশংসতার যেন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়।











