মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা খুনের পর চার দিন নিরুদ্দেশ ছিলেন ডলার

আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ যখন দ্রুত এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতে হাজির করার সময় তিনি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। কেউ বলছেন, ঘটনার আগে ও পরে ডলারের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। আবার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে জড়িয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।

মামলার শুনানির দিন সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা বারবার ডলারের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হলে ডলারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোহেলের এই বক্তব্যের পর মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ঘটনার আগের রাত ও পরবর্তী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসা হত্যার পরবর্তী কয়েক দিন ডলারকে এলাকায় দেখা যায়নি। আন্দোলন, মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তাকে আবার এলাকায় দেখা যায় বলে দাবি করেছেন তারা।

তবে স্থানীয়রা একই সঙ্গে বলছেন, এসব তথ্য সন্দেহের জন্ম দিলেও কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডলার হোসেন মিরপুর-১১ এলাকার একজন বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, তারা প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং সোহেলের গ্যারেজে ডলারের অটোরিকশা রাখা হতো। তাদের বন্ধুত্বের বিষয়টি এলাকায় পরিচিত ছিল বলেও জানান অনেকে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার আগের রাতে সোহেলের বাসায় ডলারের উপস্থিতি ছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডলারের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, মামলার মূল আসামি নিজের দায় কমানোর উদ্দেশ্যে নতুন একটি নাম সামনে আনার চেষ্টা করছেন। পরিবারের একজন সদস্য বলেন, ডলারের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই এবং তাকে ঘিরে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।

এদিকে মামলার বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত এগোচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে একদিনেই অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত রামিসার বাবা, মা, স্বজন, প্রতিবেশী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে উচ্চারিত একটি নতুন নাম ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয়
PhotoCard Icon
Create PhotoCard

রামিসা খুনের পর চার দিন নিরুদ্দেশ ছিলেন ডলার

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ যখন দ্রুত এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতে হাজির করার সময় তিনি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। কেউ বলছেন, ঘটনার আগে ও পরে ডলারের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। আবার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে জড়িয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।

মামলার শুনানির দিন সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা বারবার ডলারের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হলে ডলারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোহেলের এই বক্তব্যের পর মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ঘটনার আগের রাত ও পরবর্তী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসা হত্যার পরবর্তী কয়েক দিন ডলারকে এলাকায় দেখা যায়নি। আন্দোলন, মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তাকে আবার এলাকায় দেখা যায় বলে দাবি করেছেন তারা।

তবে স্থানীয়রা একই সঙ্গে বলছেন, এসব তথ্য সন্দেহের জন্ম দিলেও কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডলার হোসেন মিরপুর-১১ এলাকার একজন বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, তারা প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং সোহেলের গ্যারেজে ডলারের অটোরিকশা রাখা হতো। তাদের বন্ধুত্বের বিষয়টি এলাকায় পরিচিত ছিল বলেও জানান অনেকে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার আগের রাতে সোহেলের বাসায় ডলারের উপস্থিতি ছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডলারের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, মামলার মূল আসামি নিজের দায় কমানোর উদ্দেশ্যে নতুন একটি নাম সামনে আনার চেষ্টা করছেন। পরিবারের একজন সদস্য বলেন, ডলারের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই এবং তাকে ঘিরে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।

এদিকে মামলার বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত এগোচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে একদিনেই অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত রামিসার বাবা, মা, স্বজন, প্রতিবেশী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে উচ্চারিত একটি নতুন নাম ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।