রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদযাপন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০২ Time View

কালীগঞ্জে সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদযাপন
মো: মামুন আহমেদ,কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি //
শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদ্যাপিত হয়েছে। খ্রীস্টযাগ, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, স্মৃতিচারণ, ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যনাট্যসহ নানামুখী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে তুমলিয়া গির্জায় বিশেষ খ্রীস্টযাগের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তুমলিয়া মিশন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রঙিন বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
​সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রেভা. ফাদার আলবিন গমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও। কলেজের প্রভাষক আশরাফী সোহেল খান ও দীপা গরেটি গমেজের যৌথ সঞ্চালনায় মঞ্চের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী শিক্ষক আনিকা তাসনিম তুবা।
​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে এ প্রতিষ্ঠানটির অবদান প্রশংসনীয়।”
​প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও তাঁর বক্তব্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “১২ বছরের এই পথচলা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলই করবে না, বরং সুশিক্ষিত ও মানবিক গুণসম্পন্ন ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।”
​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার হুমায়ুন কবির, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর বাক্কু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাজীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক অনিল লিও কস্তা, মেট্রোপলিটন হাউজিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ডিউক প্রদীপ রোজারিও, এসএমআরএ সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মেরী শুভ্রা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী জুলিয়ানা সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
​অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ, গান, আবৃত্তি ও আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সমাপ্তি ঘটে।

Tag :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন প্রধানদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মতবিনিময় সভা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

কালীগঞ্জে সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদযাপন

আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কালীগঞ্জে সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদযাপন
মো: মামুন আহমেদ,কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি //
শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদ্যাপিত হয়েছে। খ্রীস্টযাগ, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, স্মৃতিচারণ, ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যনাট্যসহ নানামুখী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে তুমলিয়া গির্জায় বিশেষ খ্রীস্টযাগের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তুমলিয়া মিশন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রঙিন বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
​সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রেভা. ফাদার আলবিন গমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও। কলেজের প্রভাষক আশরাফী সোহেল খান ও দীপা গরেটি গমেজের যৌথ সঞ্চালনায় মঞ্চের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী শিক্ষক আনিকা তাসনিম তুবা।
​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে এ প্রতিষ্ঠানটির অবদান প্রশংসনীয়।”
​প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও তাঁর বক্তব্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “১২ বছরের এই পথচলা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলই করবে না, বরং সুশিক্ষিত ও মানবিক গুণসম্পন্ন ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।”
​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার হুমায়ুন কবির, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর বাক্কু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাজীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক অনিল লিও কস্তা, মেট্রোপলিটন হাউজিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ডিউক প্রদীপ রোজারিও, এসএমআরএ সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মেরী শুভ্রা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী জুলিয়ানা সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
​অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ, গান, আবৃত্তি ও আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সমাপ্তি ঘটে।