বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে ‘কাগুজে বাঘ’ বানানোর চেষ্টা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মার্কিন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফিন ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতির অজুহাতে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে অকার্যকর বা একটি ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিন বলেন, আইনটিতে কোথাও এমন কোনো শর্ত নেই যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সামরিক অভিযানের ৬০ দিনের সময়সীমা বা কাউন্টডাউন বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে আইনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার যে নজির সৃষ্টি করছে, তা মার্কিন গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক।
ব্রুস ফিন আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাব নিয়ে যাননি কারণ তিনি জানেন, এতে তিনি হেরে যাবেন। প্রশাসন আইনের এই অপব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজেই নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
আইন বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশও ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। শতাধিক মার্কিন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই আক্রমণকে জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন এবং ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আসন্ন আক্রমণ বা আত্মরক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন, যা ইরানের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল। তা ছাড়া, যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের স্কুল ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ এনে এটিকে ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ।
Tag :
PhotoCard Icon
Create PhotoCard

যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে ‘কাগুজে বাঘ’ বানানোর চেষ্টা ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মার্কিন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফিন ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতির অজুহাতে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে অকার্যকর বা একটি ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিন বলেন, আইনটিতে কোথাও এমন কোনো শর্ত নেই যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সামরিক অভিযানের ৬০ দিনের সময়সীমা বা কাউন্টডাউন বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে আইনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার যে নজির সৃষ্টি করছে, তা মার্কিন গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক।
ব্রুস ফিন আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাব নিয়ে যাননি কারণ তিনি জানেন, এতে তিনি হেরে যাবেন। প্রশাসন আইনের এই অপব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজেই নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
আইন বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশও ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। শতাধিক মার্কিন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই আক্রমণকে জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন এবং ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আসন্ন আক্রমণ বা আত্মরক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন, যা ইরানের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল। তা ছাড়া, যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের স্কুল ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ এনে এটিকে ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ।