সংস্কারের বদলে পুরোনো ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায় সরকার এমন মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জনগণ কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল বেছে বেছে সামান্য কিছু সংশোধনের মাধ্যমে পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো টিকিয়ে রাখতে চাইছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কার অচলাবস্থা: উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক জাতীয় জাগরণ। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ এমন একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল, যে ব্যবস্থা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল, প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করেছিল, নির্বাচন প্রভাবিত করেছিল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করেছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নামমাত্র সংস্কার নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা এমন একটি প্রজাতন্ত্র প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে; দায়মুক্তির পরিবর্তে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক জাতীয় জাগরণ। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ এমন একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল, যে ব্যবস্থা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল, প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করেছিল, নির্বাচন প্রভাবিত করেছিল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করেছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নামমাত্র সংস্কার নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা এমন একটি প্রজাতন্ত্র প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে; দায়মুক্তির পরিবর্তে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই সনদে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক দাবি করেন, জুলাই সনদ ও ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ বিপুল সমর্থন দেয়। গণভোট অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, যা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি এই কাঠামোর পক্ষে থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সরকার এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে প্রণীত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করা, দুর্নীতি দমন কমিশনে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা, গুম প্রতিরোধ, পুলিশি তদারকি সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষাসংক্রান্ত উদ্যোগও রয়েছে।
তার ভাষ্য, একই সময়ে নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ায়—এমন কিছু আইন ও বিধান বহাল রাখা হয়েছে কিংবা নতুনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে আবারও কেন্দ্রীয়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থার দিকে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ সংসদীয় প্রক্রিয়ায় মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণে গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানায় এনসিপি।
অর্থনীতি ও প্রশাসনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আবারও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিককরণের দিকে এগোচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের কিছু উদ্যোগ পরিত্যক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মেধা ও পেশাগত দক্ষতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা দুর্বল হচ্ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রমের কারণে নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বা প্রতীকী সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। টেকসই স্থিতিশীলতা আসতে পারে গণতান্ত্রিক বৈধতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক জবাবদিহিতার মাধ্যমে।
























