সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খবর বিলিই যাদের জীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৭২ Time View
বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এই দিনে যখন সারা বিশ্ব তাদের অধিকার ও মর্যাদার কথা বলছে, তখন খবরের কাগজ বিক্রেতাদের- যাদের আমরা ‘হকার’ নামে চিনি। তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন নেই। পত্রিকা সম্পাদক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে নিরলস ভূমিকা রাখলেও, এই শ্রমিকদের কপালে জোটে না কোনো ছুটি, নেই ন্যূনতম মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা।
সকাল থেকে বিকেল, রোদ-বৃষ্টি কিংবা শীত-গরম উপেক্ষা করে ভোরেই এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করেন তারা। এরপর ছুটে চলেন গ্রাহকের দুয়ারে দুয়ারে। অথচ যাদের মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের খবর পাই, তাদের জীবন-সংগ্রামের খবর রাখার সময় যেন কারো নেই।
কথা হয় বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে। তাদের ভাষ্যমতে, হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে দৈনিক আয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। এই সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা বর্তমান বাজারে প্রায় অসম্ভব। আলতাফ হোসেন নামে এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সংসার চালানো অসম্ভব বলেই ছেলেকে এই পেশায় এনেছি। অসুস্থ হলেও ছুটি নেই। কেউ আমাদের খবর রাখে না।’
হকারদের অভিযোগ, পত্রিকা ও এজেন্টের কাছ থেকে প্রাপ্ত কমিশন অত্যন্ত সীমিত। কাগজের দাম ৮ টাকায় উন্নীত হলেও তাদের আয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকে পড়ছেন। ডিজিটাল যুগে খবরের কাগজের চাহিদা কমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে হকার্স সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, আগের মতো পত্রিকা মালিকরা এখন আর হকারদের খোঁজখবর রাখেন না। হকাররা বিপদে পড়লে সমিতির পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করা হলেও, কোনো নিজস্ব তহবিল না থাকায় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হয় না।
মে দিবসের এই দিনে যখন সব ধরনের শ্রমিক সংগঠন রাজপথে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি উত্থাপন করে, তখনও সংবাদপত্র বিক্রির শ্রমিকরা অমোঘ নিয়মে পত্রিকা নিয়ে ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। তাদের এই নিরলস জীবন-জীবিকার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা উদাসীন, তা আজ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
Tag :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন প্রধানদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মতবিনিময় সভা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

খবর বিলিই যাদের জীবন

আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এই দিনে যখন সারা বিশ্ব তাদের অধিকার ও মর্যাদার কথা বলছে, তখন খবরের কাগজ বিক্রেতাদের- যাদের আমরা ‘হকার’ নামে চিনি। তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন নেই। পত্রিকা সম্পাদক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে নিরলস ভূমিকা রাখলেও, এই শ্রমিকদের কপালে জোটে না কোনো ছুটি, নেই ন্যূনতম মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা।
সকাল থেকে বিকেল, রোদ-বৃষ্টি কিংবা শীত-গরম উপেক্ষা করে ভোরেই এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করেন তারা। এরপর ছুটে চলেন গ্রাহকের দুয়ারে দুয়ারে। অথচ যাদের মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের খবর পাই, তাদের জীবন-সংগ্রামের খবর রাখার সময় যেন কারো নেই।
কথা হয় বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে। তাদের ভাষ্যমতে, হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে দৈনিক আয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। এই সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা বর্তমান বাজারে প্রায় অসম্ভব। আলতাফ হোসেন নামে এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সংসার চালানো অসম্ভব বলেই ছেলেকে এই পেশায় এনেছি। অসুস্থ হলেও ছুটি নেই। কেউ আমাদের খবর রাখে না।’
হকারদের অভিযোগ, পত্রিকা ও এজেন্টের কাছ থেকে প্রাপ্ত কমিশন অত্যন্ত সীমিত। কাগজের দাম ৮ টাকায় উন্নীত হলেও তাদের আয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকে পড়ছেন। ডিজিটাল যুগে খবরের কাগজের চাহিদা কমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে হকার্স সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, আগের মতো পত্রিকা মালিকরা এখন আর হকারদের খোঁজখবর রাখেন না। হকাররা বিপদে পড়লে সমিতির পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করা হলেও, কোনো নিজস্ব তহবিল না থাকায় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হয় না।
মে দিবসের এই দিনে যখন সব ধরনের শ্রমিক সংগঠন রাজপথে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি উত্থাপন করে, তখনও সংবাদপত্র বিক্রির শ্রমিকরা অমোঘ নিয়মে পত্রিকা নিয়ে ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। তাদের এই নিরলস জীবন-জীবিকার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা উদাসীন, তা আজ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।