সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিভাগে প্রস্তুত ৪৩ লাখ কোরবানির পশু

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজশাহী অঞ্চলে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ততা সময় পার করছেন খামারিরা। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন খামারিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। এবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কোরবানির জন্য ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ২৪ লাখ পশু রেখে বাকি ১৮ লাখ দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। তবে খরচ অনুযায়ী পশুর দাম না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। এই বাড়তি সরবরাহ শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে রাজশাহীতে পশু পালনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। একসময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ভারতীয় গরুর দাপট ছিল স্পষ্ট। সেই প্রভাবের কারণে দেশীয় খামারিরা অনেকটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সীমান্তে কড়া নজরদারির ফলে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছেন। ফলে কোরবানির পশুর জন্য বাইরের ওপর নির্ভরতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

এবারের হিসাব বলছে, বিভাগজুড়ে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল, যা সংখ্যায় ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি। এরপর রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া এবং ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ। কম খরচে পালন ও সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে ছাগল পালনে আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

খামারিরা বলছেন, এ বছর খাবারের দাম বেশি থাকায় পশু পালনে ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। তাই সে অনুযায়ী পশুর দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন ক্ষুদ্র খামারিরা।

জেলার দামকুড়া থানার খামারি আবদুল্লাহ জানান, তার পাঁচটি গরু আছে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য। প্রতিটি গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করবেন প্রত্যাশা তার। কিন্তু ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ওপরে কেউ দাম বলছেন না। ফলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই গরুগুলো বিক্রি করতে হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। রাজশাহী বিভাগের নওগাঁয় সবচেয়ে বেশি গবাদি পশু আছে কোরবানিযোগ্য। এ জেলায় গবাদি পশু আছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৫টি। জেলার চাহিদা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭টি। এরপর বগুড়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭টি। চাহিদা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। রাজশাহীতে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি চাহিদার বিপরীতে আছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। নাটোরে চাহিদা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১১, পশু আছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ লাখ ২১ হাজার ২০২টি চাহিদার বিপরীতে আছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪টি। পাবনায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি চাহিদার বিপরীতে আছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। সিরাজগঞ্জে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি চাহিদার বিপরীতে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি ও জয়পুরহাটে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি চাহিদার বিপরীতে গবাদি পশু আছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. অন্তিম কুমার সরকার বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এবার কোরবানিতে ২৪ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি ১৮ লাখ দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। খামারিরা যে পরিমাণ পশু পালন করেছেন, তাতে বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।’

পবা উপজেলার খামারি আবদুল মালেক জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়গুলো পরিকল্পনা করে এগিয়েছেন তারা। নিয়মিত খড়, ভুসি, ঘাস এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।

তানোর উপজেলার রাইসুল ইসলাম বলেন, কোরবানির বাজার মাথায় রেখে অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। এবার তার খামারে ছয়টি ষাঁড় রয়েছে, যেগুলো ধীরে ধীরে পরিচর্যা করে বাজারের উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম দিতে চাইছেন তাতে সন্তুষ্ট নন তিনি।

মোহনপুর উপজেলার সেলিনা বেগম জানান, বড় গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন, কারণ প্রতিবছরই মাঝারি ও ছোট আকারের পশুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। এতে ঝুঁকি কমে এবং বিক্রির সম্ভাবনাও বাড়ে। বিশেষ করে গো-খাদ্যের লাগামছাড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। রাজশাহীতে উৎপাদিত অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা যাবে, যা স্থানীয় খামারিদের জন্য একটি বড় সুযোগ। পাশাপাশি খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ, চিকিৎসা সহায়তা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিভাগজুড়ে বসবে কোরবানির পশুর তিন শতাধিক হাট, যা এরমধ্যে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু এলাকায় কেনাবেচা শুরু হলেও মূল জমজমাট বেচাকেনা শুরু হবে ঈদের কয়েক দিন আগে। তখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এসব হাটে ভিড় করবেন। হাটগুলোকে কেন্দ্র করে পরিবহন, শ্রম ও আনুষঙ্গিক নানা খাতে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে রাজশাহীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন প্রধানদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মতবিনিময় সভা

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

রাজশাহী বিভাগে প্রস্তুত ৪৩ লাখ কোরবানির পশু

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজশাহী অঞ্চলে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ততা সময় পার করছেন খামারিরা। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন খামারিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। এবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কোরবানির জন্য ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ২৪ লাখ পশু রেখে বাকি ১৮ লাখ দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। তবে খরচ অনুযায়ী পশুর দাম না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। এই বাড়তি সরবরাহ শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে রাজশাহীতে পশু পালনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। একসময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ভারতীয় গরুর দাপট ছিল স্পষ্ট। সেই প্রভাবের কারণে দেশীয় খামারিরা অনেকটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সীমান্তে কড়া নজরদারির ফলে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছেন। ফলে কোরবানির পশুর জন্য বাইরের ওপর নির্ভরতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

এবারের হিসাব বলছে, বিভাগজুড়ে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল, যা সংখ্যায় ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি। এরপর রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া এবং ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ। কম খরচে পালন ও সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে ছাগল পালনে আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

খামারিরা বলছেন, এ বছর খাবারের দাম বেশি থাকায় পশু পালনে ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। তাই সে অনুযায়ী পশুর দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন ক্ষুদ্র খামারিরা।

জেলার দামকুড়া থানার খামারি আবদুল্লাহ জানান, তার পাঁচটি গরু আছে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য। প্রতিটি গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করবেন প্রত্যাশা তার। কিন্তু ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ওপরে কেউ দাম বলছেন না। ফলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই গরুগুলো বিক্রি করতে হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। রাজশাহী বিভাগের নওগাঁয় সবচেয়ে বেশি গবাদি পশু আছে কোরবানিযোগ্য। এ জেলায় গবাদি পশু আছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৫টি। জেলার চাহিদা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭টি। এরপর বগুড়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭টি। চাহিদা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। রাজশাহীতে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি চাহিদার বিপরীতে আছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। নাটোরে চাহিদা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১১, পশু আছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ লাখ ২১ হাজার ২০২টি চাহিদার বিপরীতে আছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪টি। পাবনায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি চাহিদার বিপরীতে আছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। সিরাজগঞ্জে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি চাহিদার বিপরীতে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি ও জয়পুরহাটে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি চাহিদার বিপরীতে গবাদি পশু আছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. অন্তিম কুমার সরকার বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এবার কোরবানিতে ২৪ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি ১৮ লাখ দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। খামারিরা যে পরিমাণ পশু পালন করেছেন, তাতে বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।’

পবা উপজেলার খামারি আবদুল মালেক জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়গুলো পরিকল্পনা করে এগিয়েছেন তারা। নিয়মিত খড়, ভুসি, ঘাস এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।

তানোর উপজেলার রাইসুল ইসলাম বলেন, কোরবানির বাজার মাথায় রেখে অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। এবার তার খামারে ছয়টি ষাঁড় রয়েছে, যেগুলো ধীরে ধীরে পরিচর্যা করে বাজারের উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম দিতে চাইছেন তাতে সন্তুষ্ট নন তিনি।

মোহনপুর উপজেলার সেলিনা বেগম জানান, বড় গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন, কারণ প্রতিবছরই মাঝারি ও ছোট আকারের পশুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। এতে ঝুঁকি কমে এবং বিক্রির সম্ভাবনাও বাড়ে। বিশেষ করে গো-খাদ্যের লাগামছাড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। রাজশাহীতে উৎপাদিত অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা যাবে, যা স্থানীয় খামারিদের জন্য একটি বড় সুযোগ। পাশাপাশি খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ, চিকিৎসা সহায়তা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিভাগজুড়ে বসবে কোরবানির পশুর তিন শতাধিক হাট, যা এরমধ্যে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু এলাকায় কেনাবেচা শুরু হলেও মূল জমজমাট বেচাকেনা শুরু হবে ঈদের কয়েক দিন আগে। তখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এসব হাটে ভিড় করবেন। হাটগুলোকে কেন্দ্র করে পরিবহন, শ্রম ও আনুষঙ্গিক নানা খাতে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে রাজশাহীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।